Wednesday, June 21, 2017
হেস্টিংস হোস্টেল এ একদিন
ভূত তোমরা বিশ্বাস কারো কিনা জানি না | অনেকে বলে দেখেছে ,সত্যি মিথ্যে জানি না তবে আমি নিজে না দেখলে বিশ্বাস করবো না এমনটাই মনে ছিল আমার.
অনেক দিন আগের কথা, তখন আমি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ি. জানতে পারলাম আমার এক পুরোনো বন্ধু "রাখি" হেস্টিংস এর কলেজ এ বি.এড পড়তে এসেছে. দেখা করার খুব ইচ্ছে. পুরোনো বন্ধুর সাথে কত স্মৃতি জড়িয়ে থাকে. মনের কথা প্রাণের কথা তার সাথে বলতে না পারলে মনটা আনচান করে. এতোদিন পরে ওর সাথে দেখা করার সুযোগ তা হাতছাড়া করতে পারলাম না. আমি তখন হেদুয়ার কাছে এক হোস্টেল এ থাকতাম. ভাবলাম উইক এন্ড বাড়ি না গিয়ে বন্ধুর সাথে ই কাটাই. রাখি বলেদিলো আসলে সকাল সকাল আসিস. সন্ধ্যের দিকে জায়গাটা ভালো নয়. গেস্ট হয়ে একরাত থাকার কোনো প্রশ্নই ওঠে না. কারণ বাবা জানতে পারলে আর রক্ষে নেই. তাই খুব সকালে ই বন্ধুর সাথে দেখা করতে বেরিয়ে পড়লাম.
কলকাতার রাস্তাঘাট তখন বেশ জেনে গেছি, অনেক দিন হলো কলকাতায় আছি. তাই রাস্তা চিনে ওর হোস্টেল চিনে নিতে আমার কোনো অসুবিধে হয়নি. তখন সেল ফোন ছিল না, কিন্তু রাস্তা চিনে হোস্টেল এ পৌঁছে ওয়ার্ডেন কে বলতেই উনি ওর রুম নম্বর দেখে খাবার দিলেন ওকে . রবিবার রুম এ যেতে এলাও করে এক দুজনকে , আর আমি যেহেতু মেয়ে , তাই লেডিস হোস্টেল এ কোনো বাধা নেই , খুব আনন্দে ওর সাথে ওর রুম এ গেলাম.
আমি তখন পোস্ট M. Sc পড়ছি, প্রাইভেট হোস্টেল এ থাকছি, ওর হোস্টেল দেখে তো মুগ্ধ হয়ে গেলাম, াহ এমন হোস্টেল যদি আমি পেতাম তাহলে তো বোধ হয় বিশাল কিছু করে দেখিয়ে দিতাম. যাই হোক বন্ধুর সাথে আড্ডা তো জমে উঠলো. কথায় কথায় রাখি আমায় জানালো এই হোস্টেল এ নাকি ওয়ার্ডেন সবাইকে বলেই দেয় যে সবাই যেন সাথে tourch রাখে, একটু হেঁসে বললো "ভূত আছে এখানে বুঝলি!" আমি বললাম , ভূত আবার কি? যতটা সব আজগুবি |
ওর রুম এ বসে গল্প করতে করতে কখন যে বেলা গড়িয়ে গেছে খেয়াল নেই. রাখি কে জিজ্ঞাসা করেই বাথরুম তা কোথায় জিজ্ঞাসা করে একাই গেলাম বাথরুম এর দিকে,ও বলেছিলো আমার সাথে আসবে কিন্তু , আমি বীর সাহসে বললাম তার আর দরকার নেই. ওই ফ্লোর এ ৬ ta স্নানের বাথরুম আর ৬ তা টয়লেট ছিল. আমি চারিদিক ভালো করে দেখে নিলাম, যে কেউ কোথাও আছে কিনা, কেউ ছিল না সেই সময়ে বাথরুম এ. আর বিকেল বেলা বাথরুম একেবারে খটখটে শুকনো, কোনো পায়ের চাপ , জালের চিহ্ন কিচ্ছু ছিল না.
সাহস করে একা চলে তো এসেছি, কিন্তু চারিদিকে একটা গা ছমছমে ভাব রয়েছে. একেবারে শেষ প্রান্তের বাথরুম টায় গেলাম, আর বাথরুম এর দরজা গুলো মেঝে থেকে অনেকটা ওপরে, তাই কেউ আসছে যাচ্ছে কিনা বাথরুম থেকে ভালোই নজর রাখা যায়| তাই কেউ আসছে কিনা সে বিষয়ে তটস্ত ছিলাম. হঠাৎ শুনতে পেলাম একটা কলে জল পড়ে যাওয়ার আওয়াজ হচ্ছে| ভাবলাম কেউ বুঝি এসেছে, কিন্তু শেষের বাথরুম পর্যন্ত্য আসেনি ,কারো পা দেখা যায়নি দরজার নিচের ফাঁক দিয়ে, তার মানে কেউ এসে প্রথমের দিকে যে বাথরুম গুলো আছে ওখানে এসেছে. বাথরুম থেকে বেরিয়ে দেখি একটা পায়ের ছাপ শেষ বাথরুম পর্যন্ত্য এসেছে,তাহলে আমি তার পা দরজার নিচের ফাঁক দিয়ে দেখতে পেলাম না কেন? আর প্রত্যেকটা বাথরুম ভালো করে দেখলাম, সবকটা বাথরুম একেবারে খটখটে শুকনো..তাহলে জল পড়ার আওয়াজ কোথায় থেকে আসছিলো..এই সব ভেবে ভয়ে "রাখি......................"বলে চিৎকার করে এক দৌড়ে ওর রুম এ চলে গেলাম.
যতই সাহস দেখাই না কেন মনে মনে ভেবে নিয়েছিলাম ভূত আছে !!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
Subscribe to:
Comments (Atom)